20160905

সিঙ্গুর: সংক্ষেপে




·    মোট অধিগৃহীত জমি: ৯৯৭.১১ একর
·    মোট জমির মালিক ১৩হাজার ৪৯১জন
·    ক্ষতিপূরণ নিয়ে স্বেচ্ছায় জমি দিয়েছেন ৬৭১একর জমির মালিক
·    ‘ইচ্ছুক’ জমির মালিকের সংখ্যা ১০হাজার ৮৫২জন
·    মোট জমিদাতার ৮২.৮২শতাংশ শিল্প গড়তে ‘ইচ্ছুক’
·    খাস জমি, রাস্তা, মালিকানাহীন, বিচারাধীন জমির মোট পরিমাণ ১৬৯একর
·    ক্ষতিপূরণ নেয়নি ১৫৭একর জমির মালিক
·    ‘অনিচ্ছুক’ জমির মালিকের সংখ্যা ২হাজার ৬৩৯জন
·    ক্ষতিপূরণের মোট পরিমাণ ১১৮কোটি ৯৫লক্ষ টাকা
·    ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে ৯০কোটি ৮৭লক্ষ টাকা
·    নথিভূক্ত বর্গাদার ৩৩৬জন
·    বর্গাদার ক্ষতিপূরণ নিয়েছেন ২৪৯জন
·    বর্গাদার ক্ষতিপূরণ নেননি ৮৭জন


৩১শে আগস্ট দিকে দিকে শহীদ দিবস পালন করুন-গণ-আন্দোলন গড়ে তুলুন

মানবেশ চৌধুরী

(নতুন প্রজন্মের অনেক কমরেড ১৯৫৯ সালের ঐতিহাসিক খাদ্য আন্দোলনের বিষয়ে কম জানেন। মূলত তাঁদের জন্য ঘটনাগুলি সাজিয়ে দিলাম।)

• ১৯৪৭ সালে দেশভাগের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হবার পর কেন্দ্রে ও রাজ্যে যাদের হাতে শাসনভার আসে, তারা হলো দেশী-বিদেশী পুঁজিপতি ও গ্রামীণ জমিদার–জোতদারদের তল্পিবাহক। তাদের তোষন করার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হিসাবে দেশে খাদ্য সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে।
• ১৯৫৯ সাল ছিল একটা ঘটনাবহুল বছর, এই বছরে খাদ্য সংকট চরমে ওঠে। খোলা বাজার থেকে চাল, গম প্রভৃতির মতো অনেকগুলি অত্যাবশ্যক দ্রব্য উধাও হয়ে যায় এবং বহু গ্রামে দুর্ভিক্ষের অবস্থা সৃষ্টি হয়। 
• শ্রমিক, কৃষক ও অন্যান্য শ্রমজীবী জনসাধারণের মধ্যে প্রবল বিক্ষোভ দেখা দেয়। তাঁরা খাদ্যের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন এবং লাগাতার গণ আন্দোলন ও গন-বিক্ষোভ প্রদর্শণের রাস্তা গ্রহণ করেন। জনসাধারণের দাবিগুলি সহানুভুতির সঙ্গে বিচার-বিবেচনা করার পরিবর্তে তখনকার পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সরকার বিক্ষোভকারীদের উপর নির্মম দমন-পীড়ণের রাস্তা গ্রহণ করে।
• জনসাধারন চেয়েছিলেন সস্তা দরে তাঁদের প্রয়োজনের খাদ্য – পরিবর্তে পেলেন তাঁরা লাঠি, কাঁদানে গ্যাস এবং বুলেট।
• ১৯৫৯ সালে খাদ্য আন্দোলন পরিচালনা করে বামপন্থী দলগুলি ও গণ সংগঠন সমুহ। ‘মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধ’ গঠন করে এই আন্দোলন গড়ে তোলা হয়।
• ১৯৫৯ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি বিধান সভায় দাবি উত্থাপনের মাধ্যমে শুরু হয় প্রথম পর্যায়।
• ১৫ই জুন কংগ্রেস সরকারের খাদ্য নীতির প্রতিবাদে কলকাতায় প্রথম কেন্দ্রীয় সমাবেশ সংগঠিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে জেলায় জেলায় চলতে থাকে বিক্ষোভ সমাবেশ।
• ২৫ শে জুন পালিত হয় রাজ্যব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট ও হরতাল।
• ১৩ ই জুলাই শুরু হলো জেল ভরো আন্দোলন। এক মাসের মধ্যে ১৬৩৪ জন গ্রেপ্তার হলেন।
• ৮ই আগস্ট অনুষ্ঠিত হলো খাদ্য কনভেনশন।
• এতো ঘটনার পরেও বধির সরকারের ঘুম ভাঙ্গলো না।
• এই পরিস্থিতিতে ১৭ ই আগস্ট বামপন্থী দল ও গণ সংগঠন সমুহের ঐ মঞ্চ –‘মূল্যবৃদ্ধি ও দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধ কমিটি’ ঘোষণা করল – ২৩ আগস্ট থেকে সারা পচ্ছিমবঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে খাদ্যের দাবিতে প্রত্যক্ষ সংগ্রাম শুরু করা হবে।
• এই ঘোষণায় জনবিরোধী কংগ্রেসী সরকার আতঙ্কিত হয়ে উঠল এবং এই আন্দোলনকে দমন করার জন্য এলাকায় এলাকায় হিংসার পরিকল্পনা গ্রহণ করল। কিন্তু খাদ্যের ব্যবস্থা করলো না! বড়লোকদের দল তার শ্রেণীর স্বার্থ দেখা শুরু করলো।
• ২৩শে আগস্ট থেকে শুরু হলো খাদ্য আন্দলনের দ্বিতীয় পর্যায়।
• ২৬ শে আগস্ট মাঝরাতে বামপন্থী নেতা ও কর্মীদের ধড়পাকড় ও ঘরে ঘরে খানাতল্লসী শুরু হলো। দুই সপ্তাহে মোট ২৬৩৪ জনকে সরকার গ্রেপ্তার করলো।
• কিন্তু বামপন্থী নেতা ও কর্মীদের উপর দমন–পীড়ণের প্রতিবাদে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সোচ্চার হয়ে উঠলেন। কলকারখানা-হাটে-বাজারে, মহল্লায়, গঞ্জে সর্বত্র মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে প্রতিবাদে শামিল হলেন। কারন, লড়াইটা তো তাঁদেরই জন্য তাঁদেরই লড়াই।
• কংগ্রেস সরকারের দমন-পীড়ণ সত্বেও ২৩শে আগস্ট থেকে শুরু হওয়া দ্বিতীয় পর্যায়ের খাদ্য আন্দোলন দমন করা সম্ভব হলো না। সাধারন মানুষও গ্রেপ্তার হতে শুরু করলেন। ২৭ শে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৭০০০ জন নর-নারী গ্রেপ্তার হলেন। 
• ৩১ শে আগস্ট খাদ্যমন্ত্রীর অপসারণ ও খাদ্যের দাবিতে এবং পুলিশি দমন-পীড়নের প্রতিবাদে কলকাতার শহীদ মিনার ময়দানে লক্ষ লক্ষ নরনারীর জমায়েত হলো। মহাকরণ অভিমুখে চলমান শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপর পুলিশ লাঠি চালায়। সহস্রাধিক মানুষ পুলিশের আক্রমণে আহত হলেন। সাধারণভাবে বলা হয় ৮০ জন, কিন্তু কয়েকশত মানুষ ঐ বর্বর আক্রমণে মারা যান। শেষ রাতে প্রচুর মৃতদেহ পাচার করে দেয় সরকারী বাহিনী। 
• ঐদিন গঙ্গারামপুর, বর্ধমান, বহরমপুর ও মেদিনীপুরেও পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
• শুরু হলো খাদ্য আন্দোলনের তৃতীয় পর্যায়। দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ল কংগ্রেসী সরকারের এই বর্বরতার কাহিনী।
• ১লা সেপ্টেম্বর পুলিশের লাঠি চালনা ও হিংস্র তাণ্ডবের বিরুদ্ধে ছাত্র ধর্মঘট পালিত হলো। এই ধর্মঘটি ছাত্রদের উপরেও পুলিশ আক্রমণ করে –লাঠি চার্জ করে, গুলি চালায়। কলকাতার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বেপরোয়া গুলি চালনার ফলে ৮ জন নিহত ও ৭৭ জন আহত হলেন।
• এই সমস্ত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ৩রা সেপ্টেম্বর পালিত হলো সাধারণ ধর্মঘট ও হরতাল। সেদিনও রাজ্যের বভিন্ন স্থানে গুলি চললো। মারা গেলেন ১২ জন এবং আহত হলেন ১৭২ জন। গ্রেপ্তার করা হলো নির্বিচারে।
• কংগ্রেস সরকার কালোবাজারী ও মুনাফাখোরদের স্বার্থে, এভাবে শত শত নিরপরাধ শান্তিপ্রিয় নর-নারীর উপর অকথ্য অত্যাচার চালাতে থাকলো।
• কিন্তু এতো অত্যাচার সত্বেও মানুষের প্রতিবাদ স্তব্ধ করা গেল না। মানুষ খাদ্যের দাবিতে আরও উত্তাল হয়ে উঠলেন।
• ৮ই সেপ্টেম্বর সারা রাজ্যে পালিত হলো ছাত্রদের ডাকে শহীদ দিবস। 
• রক্তস্নাত কলকাতার বুকে ১০ই সেপ্টেম্বর সংগঠিত হলো অবিস্মরণীয় মৌন মিছিল। হাতে হাতে প্ল্যাকার্ড – হত্যাকাণ্ডের প্রকাশ্য তদন্ত চাই, খাদ্য মন্ত্রীর পদত্যাগ চাই। ১৮৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
• ১৯শে সেপ্টেম্বর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় লনে শহীদ স্তম্ভ বানানো হলো। 
• ২৪শে সেপ্টেম্বর সত্যাগ্রহ পালান করলেন নানা সংগঠন।
• ২৬শে সেপ্টেম্বর কলকাতা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে খাদ্য আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে শহীদ স্তম্ভ নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপিত হলো। 
• সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, ব্যাপ্তি ও সংঘর্ষের বিচারে ১৯৫৯ সালের খাদ্য আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য বিরাট। 
• বামপন্থী দল ও গণসংগঠনসমূহ ঠিক করলো, প্রতি বছর ৩১শে আগস্ট খাদ্য আন্দোলনের শহীদ দিবস হিসাবে পালিত হবে।
• পরে ঠিক হয়, শুধু খাদ্য আন্দোলনের শহীদ নন, সকল শহীদের স্মরণেই ৩১শে আগস্ট শহীদ দিবস হিসাবে পালিত হবে। এবং সে ভাবেই হয়ে আসছে।
• শুধু শহীদদের স্মরণ করা নয়, কঠিন –কঠোর লড়াইয়ের জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করার শপথ নেবার দিন ৩১শে আগস্ট।
• প্রতিবছরই এই শহীদ দিবসটি খাদ্যের দাবির লড়াইয়ের বিষয় সহ লড়াইয়ের ভিন্ন ভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়। এবারও তাই ই হয়েছে।

(যাঁরা বলবেন তাঁদেরকে বর্তমান সময়ের বিষয়গুলি অতঃপর ব্যাখ্যা করতে হবে।)
 

নয়া-উদারবাদের ২৫বছর: শ্রমিকশ্রেণীর প্রতিরোধ


এ কে পদ্মনাভন

শ্রমিকশ্রেণী হলো দেশে নয়া-উদারবাদী জমানায় আক্রমণের মুখ্য লক্ষ্যবস্তু। ১৯৯১ সালে এই নীতি ঘোষণার প্রথম দিন থেকেই শাসকশ্রেণী এবং নীতি-নির্ধারকরা শ্রমজীবী মানুষ এবং তাঁদের কষ্টার্জিত অধিকারকে আক্রমণ করেই নীতি শানিয়েছে।

এমনকি যখন আরও বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি নিয়ে আলোচনা হয়, তখনও কর্তৃপক্ষ কেবলমাত্র ‘ব্যাঙের ছাতা’-র মতো গজিয়ে ওঠা ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যাধিক্য এবং শ্রম আইনগুলির অনমনীয়তাকেই দোষারোপ করতে থাকেন। এরসঙ্গে, এখন ‘নমনীয়তা’ এবং ‘কর্মসঙ্কোচন’-এর মতো স্লোগানগুলি গোটা দেশে যে সঙ্কট নেমে এসেছে, তার থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। 

গত ২৫বছরে ভারতের শ্রমিক শ্রেণীর অভিজ্ঞতা হলো, দেশের ট্রেড ইউনিয়নগুলির আশঙ্কাই সত্য প্রমাণিত হয়েছে, যদিও তখন তারা ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হয়নি। একমাত্র যারা বামপন্থী বৃত্তে ছিলেন, তাঁরাই উপলব্ধি করেছিলেন যে এই নীতিগুলি রূপায়িত হলে দেশে বিপর্যয় নেমে আসবে। 

১৯৯১সাল থেকে এই নয়া-উদারবাদী ‘সংস্কার’ রূপায়ণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দেশের  শ্রমজীবী জনগণের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল শ্রম আইনগুলি আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়। শ্রমিকের তাঁর পছন্দমতো একটি ইউনিয়ন গড়ার অধিকারও এর মধ্যে পড়ে। ১৯২৬সালে দেশে ট্রেড ইউনিয়ন আইন প্রণয়ন হয়। এটা ঘটনা যে ব্রিটিশ আমলে এই আইন প্রণীত হলেও জাতীয় স্তরে কর্তৃপক্ষকে একটি ট্রেড ইউনিয়নকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক না করায় স্বাধীন ভারতে এখনও পর্যন্ত শ্রমিকদের যৌথভাবে দর কষাকষির অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া যায়নি। 

শ্রম আইনগুলির ক্ষেত্রে এই ‘সংস্কার’-এর রূপায়ণের বিভিন্ন দিক আছে, যারমধ্যে রয়েছে বর্তমানে চালু শ্রম আইনগুলি প্রয়োগ না করা; এই আইনগুলিকে প্রয়োগে বাধ্য করার জন্য সরকারী যে ব্যবস্থাপনা রয়েছে, সেগুলি গুটিয়ে ফেলা এবং চালু আইনগুলিতে নতুন করে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী সংশোধনী আনা। কিন্তু, ব্যাপক ধর্মঘটসহ তীব্র প্রতিরোধ আন্দোলন এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রধান দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় কেন্দ্রে পরপর জোট সরকার গঠিত হওয়ায় এই প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি হয়েছে।   

গত ২৫বছর ধরে গণতান্ত্রিক ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারের ওপর আক্রমণ নেমে আসা সত্ত্বেও তাই বড় আকারের কোনো সংশোধনী গৃহীত হতে পারেনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন যে সব শিল্প গড়ে উঠেছে, সেসব জায়গায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ট্রেড ইউনিয়ন গড়ার কার্যত অস্বীকার করা হচ্ছে। শুধুমাত্র বহুজাতিক সংস্থাগুলিতেই নয়, ভারতীয় কর্পোরেটরাও, যাদের অন্যত্র তাদের সংস্থায় এই অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হয়েছে, তারাও এই ক্ষেত্রে বহুজাতিক সংস্থাগুলিক অনুকরণ করছে।

এই পরিস্থিতিতে, কর্তৃপক্ষ সহজেই শ্রমিকদের কাজের নিরাপত্তা থেকে হাত গুটিয়ে নিতে পারছে। স্থায়ী ধরণের কাজের অস্থায়ীকরণ এবং ঠিকাকরণ করাই এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন শ্রমিকরা শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ইউনিয়ন গড়ার দাবিতে ময়দানে নামছে, তখনই এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে, যে একজনও নিয়মিত শ্রমিক না রেখে কিভাবে কোনো কারখানায় বছরের পর বছর উৎপাদন চালিয়ে গেছে।  

এর ফল হিসাবে দেখা যাচ্ছে, সংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমশক্তির ৬০শতাংশের বেশি এমনকি বিধিবদ্ধ ন্যুনতম মজুরি এবং ই এস আই ও ই পি এফ-এর মতো সামাজিক নিরাপত্তাগুলি পাচ্ছে না। রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্রের ৫০শতাংশের বেশি এবং বেসরকারী ক্ষেত্রের ৭০শতাংশের মতো শ্রমিক ঠিকা ভিত্তিতে কাজ করছেন। এই সমস্ত শ্রমিক বিভিন্ন নামে স্থায়ী, দীর্ঘমেয়াদী এবং ধারাবাহিক কাজে নিযুক্ত রয়েছেন, যা ঠিক শ্রমিক (নিয়ন্ত্রণ ও বিলোপ) আইন এবং অন্যান্য শ্রম আইনের সম্পূর্ণ বিরোধী। বহু প্রতিষ্ঠানে ১২ঘন্টা কাজ করা এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আরেকটি দিক হলো, শিল্পক্ষেত্রে মজুরির অংশ ক্রমশ কমছে, ১৯৮২-৮৩সালে যেখানে এটা ছিল ৩০শতাংশ, সেখানে ২০১২-১৩ সালে তা দাঁড়িয়েছে ১২.৯শতাংশে। আবার মজুরির হার যখন কমছে, তখন মালিকদের মুনাফার অংশ একই সময়ে ২০শতাংশ থেকে বেড়ে ৫০শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে।

১৯৯১ সাল থেকে ২০১৩সাল পর্যন্ত এই পরিস্থিতি একই গতিতে এগিয়েছে, যদিও এই সময়ে বিভিন্ন দল বা জোটের সরকার ছিল। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এন ডি এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। মোদী সরকার আরও ‌আগ্রাসী পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর বিধ্বংসী প্রভাব ফেলছে।   

কাজের সুযোগ ক্রমশ কমতে থাকায়, শোষণের মাত্রা বহুমুখী হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংগঠিত, অসংগঠিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারী-সমস্ত ক্ষেত্রের শ্রমজীবী মানুষই সঙ্কটজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি। এদের সঙ্গে রয়েছেন বিভিন্ন সরকারী প্রকল্পে স্বেচ্ছাকর্মী হিসেবে যুক্ত কর্মীরা, যারা শুধুমাত্র একটা সাম্মানিক পান, যাদের মোট সংখ্যা প্রায় ১কোটি।

কেন্দ্রের মোদী সরকার গত ২৬মাসে একগুচ্ছ শ্রম আইন সংশোধনীর প্রস্তাব রেখেছে। ইতিমধ্যে, সরকার  ঘোষণা করেছে যে ৪৪টি শ্রম আইনকে তারা ৫টি শ্রম কোডে পরিবর্তিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত ধারাগুলি তুলে নেওয়া হবে। সংসদে এই মজুরি কোড বিল ও শিল্প সম্পর্ক কোড বিলের খসড়া পেশ করার জন্য তৈরি হয়ে গেছে। কারখানাসমূহ সংশোধনী বিল ইতিমধ্যেই সংসদে পেশ করা হয়েছে, সরকার এই বিলের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডিং কমিটির সমস্ত সুপারিশ বাতিল করেছে এবং এই বিলের পশ্চাদ্‌গামী সংশোধনী কার্যকর করার জন্য অগ্রসর হচ্ছে। একই সঙ্গে, আরেকটি নতুন বিল-ছোট কারখানাসমূহ বিল-ও তৈরি হয়ে গেছে। এই দুটি বিলের নেট ফল হবে যে ৭৫শতাংশের বেশি কারখানা শ্রমিক কারখানাসমূহ আইনের আওতার বাইরে চলে যাবে এবং ন্যুনতম মজুরি আইন, মাতৃত্বকালীন আইন, ই এস আই, ই পি এফ-সহ ১৪টি মৌলিক শ্রম আইনের বাইরে তাদের ঠেলে দেওয়া হবে।    

শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারই নয়, অনেক রাজ্য সরকারও, বিশেষ করে বি জে পি শাসিত রাজ্যগুলিতে এই ধরণের শ্রম আইন সংশোধন চলছে, কেন্দ্রের আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে। কার্যত, রাজস্থান সরকার এই প্রশ্নে নেতৃত্ব দিচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে রাজস্থান সরকারকে অনুসরণ করার জন্য রাজ্য সরকারগুলিকে বলা হয়েছে। 

১৯৯১ সাল থেকেই শ্রমজীবী মানুষ এই নীতিগুলির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে আসছে। বিভিন্ন ভাবে আক্রমণ নেমে আসা সত্ত্বেও প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলছে। দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধর্মঘটে শামিল হয়েছে শ্রমিকশ্রেণী।

দেশের সংগঠিত ট্রেড ইউনিয়ন  আন্দোলনের সাফল্য এটাই যে সমস্ত কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও জাতীয় স্তরের কর্মচারী ফেডারেশনগুলি নয়া-উদারবাদী নীতিগুলির বিরুদ্ধে যৌথ মঞ্চ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। ১২দফা সর্বসম্মত দাবির ভিত্তিতে এই মঞ্চের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়েছে।

১৯৯১সাল থেকে মোট ১৬টি সাধারণ ধর্মঘটে ১৭দিন দেশ স্তব্ধ হয়েছে। গতবছর ২রা   সেপ্টেম্বর বি এম এস শেষ মূহুর্তে প্রত্যাহার করলেও দেশের ১৫কোটি শ্রমজীবী মানুষ এই ধর্মঘটে অংশ নেন, যাদের অনেকেই কোনো ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য নন।

মোদী সরকার গত সাধারণ ধর্মঘটের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘সংস্কার’ আরও ত্বরান্বিত করেছে। এরমধ্যে ‘ফিক্সড টার্ম এমপ্লয়মেন্ট’ সাম্প্রতিকতম, যা বাজপেয়ী সরকারের সময় আনা হলেও বামপন্থীদের চাপে প্রথম ইউ পি এ সরকার প্রত্যাহার করেছিল।

এই পরিস্থিতিতে, নয়া উদারবাদী নীতির ২৫ বছরে আগামী ২রা সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও জাতীয় স্তরের কর্মচারী ফেডারেশনগুলি সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।  শ্রমিকশ্রেণী পুঁজিপতি গোষ্ঠীর নামিয়ে আনা এই আক্রমণের মুখের মতো জবাব দিতে তৈরি হচ্ছে।  

ধর্মঘট নিয়ে মোদীকে বার্তা মমতার

কেন্দ্রের মোদী সরকারকে বার্তা দেওয়ার সাথে সাথে ‘বন্‌ধ’ নিয়ে তাঁর দলের কলঙ্কজনক ইতিহাসকেও মুছে দিতে চাইছেন মমতা ব্যানার্জি।

১৯৯৮ সালে তৃণমূল তৈরি হওয়ার পর থেকে না হয় বাদই দেওয়া গেলো, শুধুমাত্র ২০০৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে ২০০৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত রাজ্যসহ বিভিন্ন স্তরে ১৭টা ‘বন্‌ধ’ ডেকেছিল তৃণমূল। তার মধ্যে ২০০৭ ও ২০০৮, এই দুই বছরেই ১২বার ১২ঘন্টা (পরে কমে ১০ঘন্টা) ‘বাংলা বনধ্‌’ ডেকেছিল বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দল।

এই মমতা ব্যানার্জিই শুক্রবার ধর্মতলায় দাঁড়িয়ে বলেছেন, ‘‘বাংলায় কোনও বন্‌ধ করতে অ্যালাউ করব না। বন্‌ধ-এর নামে কোনও হুজ্জতি বরদাস্ত করব না। বনধ-এর দিনে দোকানপাট খোলা থাকবে, গাড়ি চলবে।’’

লক্ষ্য করুন ‘বনধ্‌’ শব্দটির দিকে। অন্ততপক্ষে ৬মাস আগে বি এম এস ছাড়া দেশের সবকটি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং জাতীয় স্তরের শিল্পভিত্তিক ফেডারেশন আগামী ২রা সেপ্টেম্বর ১২দফা দাবিতে ‘বনধ্‌’ নয়, ডাক দিয়েছে সাধারণ ধর্মঘটের। গোটা দেশে, এরাজ্যেও দাবিগুলির ভিত্তিতে প্রচার এখন প্রায় তুঙ্গে। কী কী দাবি? আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধিরোধে ব্যবস্থা, সীমাহীন বেকারীর বিরুদ্ধে কর্মসংস্থানের দাবি, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা, ১৮হাজার টাকা ন্যুনতম বেতন, ৩হাজার টাকা অবসরকালীন ভাতা ইত্যাদি। এটা মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ‘বন্‌ধ-এর নামে হুজ্জতি’ নয়, শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা, অধিকার রক্ষার লড়াই। সাধারণ ধর্মঘটের বিরোধিতা করে আসলে মমতা ব্যানার্জি এই দাবিগুলিরই বিরোধিতা করছেন।  

আর অন্যদিকে, তৃণমূল যে সব কারণে তখন ‘বাংলা বন্‌ধ’ ডেকেছিল, তা আজ ওদের নেতারাও মনে করতে পারবেন না, কারণ নিছক বামফ্রন্ট সরকারের বিরোধিতা করা ছাড়া সে সবের সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনের কোনো যোগ ছিল না। আসলে ‘বন্‌ধ-এর নামে হুজ্জতি’ অথবা তথাকথিত ‘হুজ্জতি’-র ইতিহাস তৃণমূলেরই। ‘বাংলা বন্‌ধ’ ডেকে অথবা না ডেকেই যখন-তখন পথ অবরোধ, রেল অবরোধ, বাস-ট্রাম ভাঙচুর, আগুন লাগানো, বোমা মারার যে ইতিহাস মুখ্যমন্ত্রীর দল তৃণমূল তৈরি করেছে, তা কখনই ভোলার নয়।

২০০৭ও ২০০৮, শুধু এই দু’বছরেই কলকাতায় রাস্তা অবরোধ করে ৫৪টা সরকারী বাসে ভাঙচুর, ২৬টা সরকারী বাস পুড়িয়েছিল তৃণমূল। ২০০৬ সালের ৩০শে নভেম্বর স্বয়ং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিধানসভা ভাঙচুর করেছিল তৃণমূল বিধায়করা, যাদের অনেকেই এখন রাজ্যের মন্ত্রিসভা ‘অলঙ্কৃত’ করছেন। ডব্লিউ বি আই ডি সি অফিস ভাঙচুর, বিভিন্ন সরকারী অফিস, থানা ভাঙচুরের কথা এর সঙ্গে যোগ করলে কুল পাওয়া যাবে না।   

আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব এরাজ্যে তৃণমূলেরই এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে এর নেতৃত্ব দিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নিজে। ধর্মতলায় অনশনের (!) নামে ২৬দিন মেট্রো চ্যানেল অবরোধ অথবা সিঙ্গুরে মোটরগাড়ি কারখানা তুলে দেওয়ার জন্য দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে ১৭ দিন ধরে অবস্থান-অবরোধ ছাড়াও ২০০৭ ও ২০০৮, এই দু’বছরে শুধু কলকাতায় বিভিন্ন কারণে ৩২বার রাস্তা অবরোধ করেছে তৃণমূল। আর একই সময়ে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী শহরতলীতে ২৮বার রেল অবরোধ করে মুখ্যমন্ত্রীর দল।   

এই যখন তাঁর দলের ইতিহাস, তখন সাধারণ ধর্মঘটের বিরোধিতা করছেন কেন মমতা ব্যানার্জি? বিশেষ করে যখন এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে গোটা দেশে এবং দাবিগুলি মূলত কেন্দ্রের বি জে পি সরকারের বিরুদ্ধে। আসলে রহস্য অন্য জায়গায়। দেশের অন্য কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এই সাধারণ ধর্মঘটের বিরোধিতা করে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি। কিন্তু মমতা ব্যানার্জি খুলেছেন, কারণ তিনি বার্তা দিতে চান নরেন্দ্র মোদীকে যে তৃণমূল তাঁর সরকারের পাশেই আছে। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে সাধারণ মানুষের নজর এড়ানোর জন্য মুখে যতই তর্জন-গর্জন করুন না কেন, লোকসভা বা রাজ্যসভা, সংসদের উভয় কক্ষেই প্রায় প্রতিটি প্রশ্নে তৃণমূলের নিঃশর্ত সমর্থন পেয়েছে মোদী সরকার। 

সাধারণ ধর্মঘটের বিরোধিতা করেও একইভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বার্তা দিতে চেয়েছেন।   

বন্‌ধ ও অবরোধ: তৃণমূলের কলঙ্কময় ইতিহাস

২০০৬ বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে ২০০৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে  পর্যন্ত রাজ্যসহ বিভিন্ন স্তরে ১৭টা বন্‌ধ ডেকেছিল তৃণমূল।

২০০৬, ৩০শে নভেম্বর : বিধানসভা ভাঙচুর, কলকাতায় অবরোধ, বাস ভাঙচুর

২০০৬, ১লা ডিসেম্বর : বন্‌ধ
         ২রা ডিসেম্বর : ট্রেন অবরোধ , হামলা
         ৫ই ডিসেম্বর : এস ইউ সি-নকশাল বন্‌ধ - তৃণমূলের সমর্থন
         ৬ই ডিসেম্বর : রাজ্যে ২ ঘন্টার জন্য রাস্তা ও রেল অবরোধ

২০০৬, ২১শে ও ২২শে ডিসেম্বর: ৪৮ ঘন্টা বন্‌ধ ডেকেছিল, যদিও ২০শে ডিসেম্বর রাতে  প্রত্যাহার  করে  নেয়।         
        
২০০৭, ১৬ই মার্চ: তৃণমূলের বাংলা বন্‌ধ

২০০৭, ১২ই নভেম্বর : কংগ্রেস-তৃণমূল কংগ্রেস ও বি জে পি সকলে মিলে বন্‌ধ ডাকে, গোটা রাজ্যে হামলা হয়েছিল।

২০০৭  ও ২০০৮ সালে –
·       ধর্মতলায় অনশনের (!) নামে ২৬দিন মেট্রো চ্যানেল অবরোধ
·       সিঙ্গুরে মোটরগাড়ি কারখানা তুলে দেওয়ার জন্য দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়েতে ১৭ দিন ধরে অবস্থান-অবরোধ
·       শুধু কলকাতায় বিভিন্ন কারণে ৩২বার রাস্তা অবরোধ
·       কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী শহরতলীতে ২৮ বার রেল অবরোধ
·       সারা রাজ্যে ১ ঘন্টার জন্য ২বার রেল অবরোধ
·       ১২টা ১২ ঘন্টার (পরে কমে ১০ ঘন্টা) বাংলা বনধ
·       কলকাতায় ৫৪টা সরকারী বাসে ভাঙচুর, রাস্তা অবরোধ
·       কলকাতায় ২৬ টা সরকারী বাস পোড়ানো, রাস্তা অবরোধ

এছাড়া, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে ২০০৯সালের ৩রা জানুয়ারি সারারাত রাস্তা অবরোধ, ডব্লিউ বি আই ডি সি অফিস ভাঙচুর, বিভিন্ন সরকারী অফিসে, থানা ভাঙচুর।

vএছাড়া জেলাভিত্তিক বা স্থানীয় স্তরে অসংখ্য বন্‌ধ করেছে তৃণমূল। অবরোধ, সরকারী অফিস-কাছারি ভাঙচুর, থানায় হামলা, বাস পোড়ানো ছিল তৃণমূলের নৈত্যনিমিত্তিক ঘটনা। সরকারে আসার পরেও নানা জায়গায়, বিশেষ করে কলেজ, বিশ্ববিদ‌্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েই যাচ্ছে তৃণমূলীরা, এক্ষেত্রে সরাসরি পুলিস প্রশাসনের মদত পাচ্ছে। 


যে যে দাবিতে ২রা সেপ্টেম্বর সারা ভারত সাধারণ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে


(১) অবিলম্বে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিরোধে সর্বজনীন গণবন্টন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং খাদ্যদ্রব্যের বাজারে ফাটকাবাজি ব্যবসা বন্ধ করতে হবে।

(২) সীমাহীন বেকারী রোধ করে সকলের জন্য কর্মসংস্থান করতে সুনিশ্চিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

(৩) সমস্ত মুখ্য শ্রম আইনগুলি কঠোরভাবে প্রয়োগ করে শ্রমিকের অধিকারের আইনানুগ মান্যতা দিতে হবে। মালিকদের কোন রকম ছাড় দেওয়া যাবে না। যে মালিক শ্রম আইন ভঙ্গ করবে, তাকে কঠিন শাস্তি দিতে হবে।

(৪) সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা দিতে হবে সমস্ত শ্রমিক-কর্মচারীকে।

(৫) মূল্যসূচকের সাথে পরিবর্তন সাপেক্ষে ১৮,০০০ টাকা ন্যূনতম মাসিক বেতন দিতে হবে।

(৬) সমস্ত শ্রমজীবী মানুষের জন্য প্রতি মাসে ন্যুনতম ৩,০০০টাকা পেনশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

(৭) কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার পরিচালিত সংস্থাগুলির বিলগ্নীকরণ এবং উদ্দেশ্যমূলক পরিকল্পিতভাবে শেয়ার বিক্রি বন্ধ কর।

(৮) স্থায়ী ও স্থায়ী ধরণের কাজে ঠিকাপ্রথা বন্ধ করতে হবে এবং সমকাজে সমবেতনের ভিত্তিতে সকল ঠিকা শ্রমিককে স্থায়ী কর্মীদের সমান মজুরি ও অন্যান্য সুবিধা দিতে হবে।

(৯) বোনাস, ই এস আই, প্রভিডেন্ট ফান্ড আইনের যোগ্যতা সীমা প্রত্যাহার করতে হবে। গ্র্যাচুইটির পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে।

(১০) আবেদনের ৪৫দিনের মধ্যে ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন দিতে হবে। আই এল ও কনভেনশন নং ৮৭ ও ৯৮ ভারত সরকারকে মান্যতা দিতে হবে।

(১১) শ্রম আইন সংস্কারের নামে শ্রমিকের অধিকার হরণ করে মধ্যযুগীয় দাসপ্রথা প্রচলনের চক্রান্ত বন্ধ কর।

(১২) রেল, বীমা এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সরাসরি বিদেশী পুঁজি বিনিয়োগ বন্ধ কর।

রাজ্যের ২দফা দাবি
(১৩) বন্ধ কারখানা খুলতে হবে এবং রুগ্‌ণ কারখানা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।
(১৪) কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের পুনরুজ্জীবন করতে হবে।

***** আপনি কি এই দাবিগুলি সমর্থন করেন?

তাহলে আসুন। ২রা সেপ্টেম্বর সাধারণ ধর্মঘট সফল ও সর্বাত্মক করতে এই দাবিগুলির সমর্থনে ব্যাপক প্রচার করুন, ধর্মঘটে শামিল হোন।   

20160710

মৃল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচীতে যোগ দিন: সি পি আই (এম)-র আহ্বান

মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারী বৃদ্ধির প্রশ্নে ১১-১৭ই জুলাই সি পি আই (এম)-র ডাকে সারা ভারতে প্রতিবাদ সপ্তাহ পালিত হবে। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রতিবাদ সপ্তাহে কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের জন্য পার্টির রাজ্য কমিটি সকলের কাছে আবেদন জানিয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধি
মোদী সরকারের একটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর দাম নিয়ন্ত্রণ করা ও কমানো। কারণ ইউ পি এ সরকারের সময় প্রচণ্ড হারে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছিল। ফলে বিজেপি-র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনেককে মোহান্বিত করেছিল। অথচ দু’বছরে জনবিরোধী নীতি গ্রহণ করে মোদী সরকার প্রচণ্ড হারে দামবৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করেছে। এবং এই দু’বছরে অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর দামবৃদ্ধির নজির সব অতীত রেকর্ডকে ম্লান করে দিয়েছে। কালোবাজারী ও বৃহৎ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রেও মোদী সরকার দু’বছরে কালো নজির সৃষ্টি করেছে। প্রায় সমস্ত খাদ্যসামগ্রীর দাম এই সময়ে ক্রমাগত বেড়েছে। তার কিছু দৃষ্টান্ত দেওয়া যেতে পারে। দু‘বছর আগের চেয়ে বর্তমানে অড়হড় ও কলাইয়ের ডালের দাম বেড়েছে ১৪০শতাংশ। গত তিনমাসে সারা ভারতে সবজির দাম বেড়েছে ১২০শতাংশের বেশি। দেশের কোন কোন অংশে সবজির দাম অপেক্ষাকৃত কম বাড়লেও কয়েকটি সবজির দাম ১২০শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আলুর দাম কিলো প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ২০টাকার বেশি। পিঁয়াজের দাম এখন কিছুটা কমলেও অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কেজি প্রতি ৭০ থেকে ১০০টাকা দাম চড়েছিল। চিনির দাম বাড়তে বাড়তে এখন ৪০টাকা থেকে ৫০টাকার মধ্যে। চিনির দাম আরও বাড়বে। চাল ও গমের দাম ইতিমধ্যে বেড়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভারতে মাথাপিছু কয়েকটি অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য সামগ্রী ভোগের হার হ্রাস পেয়েছে।

যেমন ১৯৫১সালে দৈনিক মাথাপিছু ডাল গ্রহণের পরিমান ছিল ৬১গ্রাম, ২০১৩সালে ৪২গ্রাম, ২০১৬সালে ৪০গ্রামের নিচে। অথচ এই ডাল ভারতের জনগণের পুষ্টির জন্য অত্যাবশ্যক। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের বাস ভারতে। আর এই সময়ে ঘটছে প্রচণ্ড মূল্যবৃদ্ধি।

নিম্নমানের পথ্য গ্রহণজনিত রোগে প্রতিদিন ভারতে তিন হাজার শিশুর মৃত্যু হয়, ৫৮শতাংশ শিশু খর্বকায়; গ্রামীণ ভারতের ৭০শতাংশ মহিলা রক্তাল্পতায় ভোগে; প্রতিদিন ২০কোটি মানুষ ভারতে ক্ষুধার্ত অবস্থায় থাকে। এই তথ্য বিভিন্ন সরকারী ও আন্তর্জাতিক সমীক্ষার রিপোর্টে উঠে এসেছে।

একটা হিসেবে বলা হয়েছে বি পি এল-ভুক্ত পরিবারগুলির আয়ের ৭০শতাংশ এবং এ পি এল-ভুক্ত পরিবারগুলির আয়ের ৫০শতাংশ কেবল খাদ্যগ্রহণের জন্য ব্যয় হয়। এর ফলে খাদ্যদ্রব্যের সামান্য দামবৃদ্ধিও ভারতের বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবনমানের ওপর বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলে। এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী মোদী সরকারের আগ্রাসী নয়া-উদারবাদী নীতি এবং বাজারে নিয়ন্ত্রক শক্তিগুলিকে দাম নির্ধারনের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া। ইউ পি এ সরকারও এই নীতি নিয়ে চলেছিল।

মারাত্মক আমদানি-রপ্তানি নীতি
যখন প্রয়োজন তখন সরকার আমদানি না করে দেশের বৃহৎ ব্যবসায়ীদের প্রচণ্ড হারে মুনাফার সুযোগ করে দেয়। যখন সরকার বুঝতে পারলো যে খরার জন্য ডালের উৎপাদন ২০১৪-১৫সালে কমে গেছে তখনই বাইরে থেকে ডাল আমদানি থেকে মজুত করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা না করার ফলে ডালের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং মজুতদারদের মুনাফাও ততোধিক হারে বৃদ্ধি পায়। তা না করে এরকম অবস্থায় যখন ডাল আমদানি করলো তা এতটাই কম করা হল। যার জন্য সরকার অজুহাত দিল আন্তর্জাতিক বাজারে ডালের দাম বেশ চড়া। তাই সামান্য পরিমানেই ডালের আমদানি করলো। ২০১৫সালের শেষে কিলো প্রতি অড়হড় ডালের দাম ছিল ২০০টাকা অথচ কৃষকেরা কিলো প্রতি দাম পেয়েছিল মাত্র ৪০টাকা। এর দ্বারা বোঝা যায় মোদী সরকার মজুতদারদের ব্যপক মুনাফার স্বার্থে কাজ করছে।

মুনাফাখোরদের জন্য ব্যবস্থা
কৃষকদের সহায়তার নাম করে পাইকারি মাণ্ডি বা কৃষি দ্রব্যের বাজার কমিটির বিধি-নিষেধ তুলে দেয়। মজুত করার নিয়মও সরকার শিথিল করে দেয়। দাম প্রচণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ার পরে এই নিয়মগুলোকে কঠোর করে। উভয়ক্ষেত্রে বৃহৎ ব্যবসায়ী ও মুনাফাখোরদের রমরমা স্বাধীনতা দেওয়া হয়। এর অর্থ কৃষকদের জন্য নামমাত্র দাম এবং ক্রেতাদের জন্য অসহনীয় চড়া দাম।

পেট্রোদ্রব্যের দরনীতি
মূল্যবৃদ্ধির আর একটি কারণ পেট্রোদ্রব্যের সরকারী দরনীতি। গত দু’বছরে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়ামের আন্তর্জাতিক দাম কমেছে ৬২শতাংশ। ভারত তার পেট্রোপণ্যের তিন চতুর্থাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে। একটা হিসেবে বলা হয়েছে অপরিশোধিত তেলের ক্রমহ্রাসমান দামের ফলে ভারতে লাভ হয়েছে ২.১৪লক্ষ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে যে হারে দাম কমেছে ভারতের বাজারে সেই পেট্রোপণ্যের দাম সরকার অনেক চড়া হারে ধার্য করেছে। এর ফলে সরকারের লাভ হয়েছে কিন্তু জিনিসপত্রের দাম প্রচণ্ড বেড়েছে। গত দু’বছরে মোদী সরকার পেট্রোপণ্যের ওপর অন্তঃশুল্ক বাড়িয়েছে পাঁচবার। তাছাড়া এই দু’বছরে ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে ২৩বার এবং পেট্রোলের দাম বাড়ানো হয়েছে ২০বার। একটা হিসেব থেকেই এই চিত্র পরিষ্কার হবে। প্রকৃত উৎপাদন খরচ ধরে বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক দাম দাঁড়ায় লিটার প্রতি ২৬টাকা। অথচ আমাদের এখানে সেই তেল আমদানি করে বিক্রি করা হয় লিটার প্রতি ৬৭টাকা দামে। সরকার এভাবে শুল্ক কর বসিয়ে ডিজেল ও পেট্রোপণ্যের দাম চড়া করে তুলেছে। যে কোন সাধারণ মানুষই বোঝেন পেট্রোল ডিজেলের দাম বাড়লে সব জিনিসেরই দাম বাড়ে। এই দামবৃদ্ধির জন্য সরাসরি এবং সম্পূর্ণরূপে মোদী সরকারই দায়ী। যখন খরা পরিস্থিতির জন্য জলের সঙ্কট তখন ডিজেলের দামবৃদ্ধি কৃষকদের এবং কৃষি উৎপাদনের মারাত্মকভাবে ক্ষতি করে। কিন্তু মোদী সরকার তাও গ্রাহ্য করে নি।

আগাম বাণিজ্যের ফাটকাবাজি
অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধির আর একটি কারণ হল অত্যাবশ্যকীয় কৃষিপণ্যের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যে পণ্য বিনিময়ের ফাটকাবাজি। আগের তুলনায় বিশেষ করে কয়েকটি ক্ষেত্রে যেমন, গম, চিনি ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর আন্তর্জাতিক দাম সাধারণভাবে কম। পরে আগামীদিনের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যের স্বার্থও হ্রাস পায়। কিন্তু বহু কৃষি উৎপাদন দেশে প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দামবৃদ্ধির আশঙ্কা করা হয়েছিল। এর অর্থ ভবিষ্যৎ বাণিজ্যের ফাটকাবাজিদের বর্ধিত স্বার্থ। বর্তমানে গম, চিনি, ডাল এমনকি আলু ইত্যাদি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যসহ প্রায় সব কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রেই ভবিষ্যৎ বাণিজ্যকে সরকার অবাধ অনুমতি দিয়েছে। ভবিষ্যৎ বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার জন্য সংসদের উপদেষ্টা কমিটির সর্বসম্মত সুপারিশ অগ্রাহ্য করে সরকার বৃহৎ ব্যবসায়ী ও ফাটকাবাজিদের স্বার্থে এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

গণবন্টন ব্যবস্থা আরও দুর্বল
অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর দাম যখন একটানা বেড়ে চলেছে তখন প্রয়োজন হচ্ছে গণবন্টন ব্যবস্থার মাধ্যামে নিয়ন্ত্রিত দামে পণ্যবিক্রি সুনিশ্চিত করা। এতে বাজারেও দাম কমতো। এই গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবৃদ্ধি আটকানোর কাজ না করে মোদী সরকার খাদ্য নিরাপত্তা আইনকে বরবাদ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। এই খাদ্য নিরাপত্তা আইন খুবই অপর্যাপ্ত। তা সত্ত্বেও এই খাদ্য নিরাপত্তা আইনে গ্রামীণ এলাকার ৭৫শতাংশ মানুষের সুবিধা পাওয়ার কথা। যেমন কিলোপ্রতি ২টাকা করে গম এবং কিলোপ্রতি তিন টাকা করে চাল। কিন্তু আইনের এই বিধানও কার্যকর করা হচ্ছে না। উপভোক্তা পরিবারগুলির চিহ্নিতকরণ পদ্ধতি ও গুরুতর রূপে ত্রুটিপূর্ণ। এর ফলে কোটি কোটি পরিবার সস্তা দামে রেশনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাছাড়া মাথাপিছু যে ৫কেজি খাদ্যশস্য দেওয়া হচ্ছে তাতে এক বিরাট সংখ্যক বি পি এল-ভুক্ত পরিবার উল্লেখযোগ্য কোনও স্বস্তি পাচ্ছে না। আগে প্রত্যেক বি পি এল পরিবারের সদস্য সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও কমপক্ষে ৩৫কেজি খাদ্যশস্য পাওয়ার উপযুক্ত ছিল। মাথাপিছু কোটা বরাদ্দের অর্থ ৭সদস্যের কম পরিবারের রেশন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। খাদ্যশস্যের দামবৃদ্ধির সমস্যা মোকাবিলার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করার প্রশ্নে মোদী সরকার সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দামবৃদ্ধি রোধ করা যায় একমাত্র যদি সবজি, ডাল, তৈলবীজ, আখ ইত্যাদির উৎপাদন নতুন বীজ, নতুন প্রযুক্তি সস্তা দরে উপকরণ, জল ইত্যাদির ব্যাপক ব্যবস্থা করা যায়। এবং গণবন্টন ব্যবস্থার জন্য বিরাটভাবে উৎপাদন বাড়িয়ে উৎপাদকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য সুনিশ্চিত করা যায়। কিন্তু বৃহৎ ধনী, ব্যবসায়ী, মজুতদার ও ফাটকাবাজদের স্বার্থরক্ষায় নিমজ্জিত মোদী সরকার সে পথে হাঁটতে নারাজ। এর ফলে মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে আগামীদিনগুলি আরও বেশি উদ্বেগজনক।

বিকল্প নীতি কেরালায়
খোলাবাজারে যেখানে কলাই ডালের দাম কিলো প্রতি ৮১টাকা, সেখানে সরকার নিয়ন্ত্রিত দোকান থেকে মাত্র ৬৬.১৩টাকায় সেই ডাল বিক্রি হচ্ছে। বর্তমান গণবন্টন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে প্রাথমিকভাবে দেড়শো কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। সস্তায় উন্নতমানের ওষুধ বিক্রির জন্য কেরালায় বাম-গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

দাবিসমূহ
(১)   পেট্রোল, ডিজেলের ওপর সরকারী অন্তঃশুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে এবং দাম কমাতে হবে পেট্রোল ডিজেলের।
(২)   গণবন্টন ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত দরে অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে হবে।
(৩)  সকলের জন্য গণবন্টন ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। উপভোক্তার ত্রুটিপূর্ণ তালিকা সংশোধন করতে হবে। পরিবারপিছু কমপক্ষে ৩৫কিলো খাদ্যশস্য দিতে হবে।
(৪)   মিড-ডে-মিল প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়াতে হবে এবং আই সি ডি এস-র মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে হবে।

(৫)   ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সরকারী হাসপাতাল এবং ঔষধালয় থেকে সস্তায় উৎকৃষ্ট মানের ওষুধ দেওয়া সুনিশ্চিত করতে হবে। অত্যাবশ্যকীয় কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে আগাম-বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে হবে।