20200821

১৬’র ভোটে আঁখি-সৌজন্যে মমতার ৩৮ভিডিও ভাইরাল

 


‘আকর্ষণীয় কথা, সুন্দর সুর দিয়ে জনপ্রিয় শিল্পীদের গাওয়া গান, সঙ্গে ছোট ছোট ভিডিও-এই প্যাকেজ খুব সহজেই ভাইরাল হতে পারে। তা ব্যবহার করেই মমতা ব্যানার্জির পাঁচ বছরের সরকারের রিপোর্ট কার্ড মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। মানবিক আবেদনের স্টোরি। এরকম ছোট ছোট ভিডিও ফেসবুক জুড়ে দারুণ ছড়িয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস এমন ৩৮টি ভিডিও ছেড়েছিল ফেসবুকে, যা ভাইরাল হয়েছিল।’

এটা তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণের রিপোর্ট নয়। ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর কয়েকঘন্টার মধ্যেই এই প্রতিবেদন লিখেছিলেন আঁখি দাস। ১৯ মে একটি সর্বভারতীয় নিউজ পোর্টালে তা প্রকাশিত হয়।

ফেসবুকের মত শক্তিশালী, গোটা বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক মাধ্যমের ভারতের অন্যতম শীর্ষ কর্ত্রী একটি রাজনৈতিক দলের ভোটে জেতায় উচ্ছ্বসিত হয়ে লিখছেন তা! এখানেই থামেননি, এমনকি যেভাবে নির্বাচনী নির্ঘন্ট প্রকাশ হবার সঙ্গে সঙ্গেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল, সর্বোপরি তৃণমূলের ‘মুখ’ আছে, তাদের যোগ্য ‘নেতা’ আছে তাও বেমালুম লিখেছিলেন এই ফেসবুক কর্ত্রী। তবে শাসক তৃণমূলের একটি মহলের দাবি, যে ৩৮টা ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছিল, যেভাবে প্রচারের সুর বেঁধে দেওয়া হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিশেষত ফেসবুকে, তাতে দলেরই বিধায়ক মন্ত্রীর এই পুত্রবধূর ‘ভূমিকা’ গুরুত্বপূর্ণ।

ফেসবুকের ভারত, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর আঁখি দাস। ২০১৩ সাল থেকেই ফেসবুকে বিজেপি-আরএসএসের ঘৃণ্য প্রচারকে ‘অনুমোদন’ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধেই। সেই তিনিই একটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে শাসক দলের হয়ে প্রতিবেদন লিখছেন, এমনকি কীভাবে ফেসবুকে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে তৃণমূলের প্রচার ভিডিও, তারও বর্ণনা দিচ্ছেন।


বিজেপি সখ্যতার অভিযোগ, তৃণমূল ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ একজনের বিরুদ্ধেই! একই সঙ্গে বিজেপি’র ঘৃণ্য বিষাক্ত প্রচারের বিরুদ্ধে বামপন্থীদের সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্ট কে ‘মুছে দেওয়া’, আরএসএসের হিংস্রতার ছবিকে ‘মুছে’ দেওয়া এমনকি নির্দিষ্ট পোস্টের ‘রিচ’ পরিকল্পিতভাবে কমিয়ে দেওয়া, সব আসলেই একই খাতে বইছে। বিজেপি’র সঙ্গে সখ্যতা তৃণমূলের পক্ষে প্রচারে কোন ‘বাধা’ হয়নি!

আঁখি দাসের বিজেপি যোগের পাশাপাশি তৃণমূল ঘনিষ্ঠতার চিত্র গণশক্তি সামনে এনেছে। তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে সব মহলে। যদিও তৃণমূলের তরফে সরকারিভাবে এদিন রাত পর্যন্ত কোন মন্তব্য করা হয়নি।

সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক সূর্য মিশ্র এই প্রসঙ্গেই এদিন ট্যুইটে বলেন ‘‘সংঘ পরিবারের সঙ্গে মমতার সম্পর্ক, সংঘ ‘দেশপ্রেমিক’ ও তিনি ‘মা দূর্গা’ এই যৌথ ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে আসে। সংঘ পরিবার বিজেপি ও তৃণমূলকে নিয়ন্ত্রন করে। মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি’র মধ্যে তরজা ভাই-বোনের ঝগড়া। সংঘ নিয়ে তিনি নিশ্চুপ। কারণ একান্নবর্তী পরিবারের একমাত্র কর্তা আরএসএস’’

আঁখি দাস মাইক্রোসফ্টেরও ভারতের পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর, একেবারে শীর্ষস্তরের পদে ছিলেন। ২০০৪ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন। সেই সময়তেই ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার, মূলস্রোতের মিডিয়ায় প্রচারের ভাষ্য, রুপরেখাকে চোহারা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন আরো একজন। তাঁর নাম সাবির ভাটিয়া। হটমেল’র অন্যতম সহ প্রতিষ্ঠাতা। সাবির ভাটিয়া কর্ণধার থাকাকালীনই ১৯৯৮ সালে ৪০০ মিলিয়ন ডলারে মাইক্রোসফ্ট ‘হটমেল’ কিনে নেয়। যদিও পরবর্তীকালে মাইক্রোসফ্ট থেকে বেরিয়ে ই-কমার্স ফার্ম তৈরি করেন এই উদ্যোগপতি।

কমিউনিস্টবিরোধী প্রচারে বৃহৎ সংস্থা, বহুজাতিক কর্পোরেশন যে স্বেচ্ছাশ্রম দেয় তা বারেবারেই এদেশে একাধিক ঘটনাপরম্পরায় সামনে এসেছে।

একজন শিক্ষাবিদের পাশাপাশি আঁখি দাসের ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হস্তক্ষেপে একেবারে শেষমুহুর্তে ২০১১ সালে রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ঠাঁই পান। প্রথমবার জিতেই মন্ত্রীও হন। তাতেও ফেসবুকের এই প্রবল ক্ষমতাশীল কর্ত্রীর যথেষ্ট ভূমিকা আছে বলেই জানা গেছে খোদ তৃণমূল সূত্রে। রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের পূত্রবধূ হলেন আঁখি দাস। এদিন যদিও বারেবারে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। রবিরঞ্জন দাসের পুত্র কেন্দ্রের উচ্চপদস্থ আমলা, বর্তমানে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কে ডেপুটেশনে আছেন। আরএসএস যোগাযোগ স্পষ্ট। আঁখি দাসের দিদি রশ্মি দাস প্রকাশ্যেই নিজের আরএসএস ঘনিষ্ঠতার দাবি করেন। এতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু ফেসবুকের মত সামাজিক মাধ্যমের অন্যতম শীর্ষ কর্ত্রী সেই রাজনৈতিক অবস্থানকে ব্যবহার করছেন ফেসবুক পরিচালনায়,  তা নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ইতিমধ্যে ফেসবুকের অভ্যন্তরেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ‘ব্যবসার ক্ষতির’ অজুহাতে ফেসবুক ইন্ডিয়ার বিজেপি’ সখ্যতা নিয়ে। শুধু তাই , বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফেসবুকের কর্মীরা সংস্থার অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট ফোরামেই চিঠি দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, ভারতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আদৌ সংস্থার নিজস্ব নজরদারির প্রক্রিয়া কী মেনে চলছে? এমনকি মুসলিম বিরোধী ঘৃণা প্রচারকে যেভাবে সঙ্গত দেওয়া হচ্ছে তাতেও ক্ষোভ, যন্ত্রণা প্রকাশ করেছেন খোদ ফেসবুকের বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা।

ফেসবুকে বিজেপি, আরএসএসের উগ্র, বিষাক্ত প্রচারকে বাড়তি ‘সুরক্ষা’ দেওয়া ব্যবসার স্বার্থে- তা মূলত ২০১৩ সাল থেকেই বেশিরকম ভাবে সামনে আসতে শুরু করে। ভারতে ফেসবুকের পলিসি সংক্রান্ত প্রধানের দায়িত্বে আঁখি দাস যোগ দেন ২০১১ সালের অক্টোবরে। ২০১৪ সাল থেকে ফেসবুকের মত সর্ববৃহৎ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক মাধ্যম স্পষ্টতই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ শুরু করে। 

গণশক্তি, ২১ আগস্ট, ২০২০

 

20200820

বিজেপি’র ফেসবুক ঘনিষ্ঠতায় যোগসূত্র রয়েছে তৃণমূলেরও

 


ভারতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিজেপি-আরএসএস’র আঁতাত ফাঁস করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবাদ সব মহল থেকে হলেও আশ্চর্যজনকভাবে নীরব তৃণমূল সুপ্রিমো মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

তৃণমূলের এই হিরন্ময় নীরবতা রহস্যজনক। তবে রামমন্দির থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ—  দেশের যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মমতা ব্যানার্জি ও তৃণমূলের নীরবতা আসলে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, বারেবারে তা স্পষ্ট হয়েছে।

এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হলো না!

এবার সেতু হয়ে উঠলেন সেই আঁখি দাসই।

নিজেদের নিয়ম, অবস্থানকেই বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিজেপি নেতাদের উগ্র ঘৃণার প্রচার ‘ব্যবসা ও শাসক দলের সঙ্গে সম্পর্ক’র খাতিরে ভারতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়ে চলেছে, অভিযোগের তীর আঁখি দাসের দিকে।

আঁখি দাস ভারতে ফেসবুকের অন্যতম কর্ত্রী, ফেসবুকের ভারত, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর। তাঁর দিদিও রশ্মি দাস আরএসএস’র ঘনিষ্ঠ, বর্তমানে একটি এনজিও’র কর্ত্রী, যা দিল্লিতে আরএসএস’র একটি ভবন থেকেই চলে।

তবে এখানেই দাঁড়ি টানা যাচ্ছে না আঁখি দাসের পরিচয়-বৃত্তান্তের।

২০২০ সালে ফেসবুকের নাগপুর-করণের এই বিতর্কের অনেক, অনেক আগেই ২০১১ ও ২০১৬’র বিধানসভা নির্বাচনে এরাজ্যে তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনী প্রচার লড়াইয়ে রীতিমতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন আঁখি দাস। ২০১৬’র নির্বাচনে ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমে প্রচারেও ‘মেঘের আড়াল’ থেকেই কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছিলেন আঁখি দাস। এমনকি এরাজ্যের একটি বিধানসভা নির্বাচনী কেন্দ্রে সশরীরে হাজির থেকে তৃণমূলের ‘ওয়ার রুম’র তদারকি করেছিলেন আঁখি দাস।

আঁখি দাসের শ্বশুরমশাই এরাজ্যের শাসক তৃণমূলের দু’বারের বিধায়ক, একবারের মন্ত্রী। ভারতে ফেসবুকের পলিসি সংক্রান্ত প্রধান, প্রবল ক্ষমতাধর আঁখি দাস রাজ্যের প্রাক্তন কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের পুত্রবধূ। শাসক তৃণমূলের অন্দরে অনেক বিষয়ে খবর রাখেন এমন মানুষজনও জানেন, আঁখি দাসের প্রভাব প্রথমবারের বিধায়ককে মন্ত্রী হতে সাহায্য করেছিল।

রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় দক্ষিণ বর্ধমান কেন্দ্রের বিধায়ক। ২০১১ সালে এই কেন্দ্র থেকে বামফ্রন্ট সরকারের তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেনকে হারিয়ে তিনি জিতেছিলেন। এই প্রসঙ্গে সামনে আসতেই পারে কেন্দ্রীয় সরকারের এক উচ্চ পদস্থ আমলার কথা। তিনি সৌম্য চট্টোপাধ্যায়। আঁখি দাসের স্বামী। সৌম্য চট্টোপাধ্যায় মেধাবী ছাত্র ছিলেন। প্রেসিডেন্সি পরে জেএনইউ। প্রেসিডেন্সিতে ১৯৮৬সালে ভর্তি হয়েছিলেন। শোনা যায়, প্রেসিডেন্সি কলেজের আরএসএস’র ছাত্র সংগঠন এবিভিপি’র প্রথম ইউনিট তৈরি হয়েছিল তাঁরই হাত দিয়ে, যদিও এখন সেই সংগঠনের অস্তিত্ব নেই। জেএনইউ’তে আঁখি দাসের সঙ্গে তাঁর পরিচয় এবং বিদেশে যাত্রা। পরে বিবাহ। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দিল্লি থেকে এসে বেশ কিছুদিন বর্ধমানে নিজের বাড়িতেই ছিলেন সস্ত্রীক। বর্ধমান শহরের শাসক তৃণমূলের কর্মী, সংগঠকরাও জানেন, বাবার ভোটে পিছনে থেকে ওয়ার রুমের দায়িত্ব কীভাবে সামলেছিলেন এই কেন্দ্রীয় উচ্চ পদস্থ আমলা। মিডিয়া সামলানোর দায়িত্বে ছিলেন আঁখি দাস।

তখন আঁখি দাস মাইক্রোসফট-এর ভারতের পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর, একেবারে শীর্ষস্তরের পদে ছিলেন। ২০০৪ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি এই পদে ছিলেন। ২০১১’র শেষদিকেই তিনি ফেসবুকে যোগ দেন। ২০১১ সালে অক্টোবর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রথমে ফেসবুক ইন্ডিয়া এবং পরে সাউথ ও সেন্ট্রাল এশিয়ার পাবলিক পলিসি ডিরেক্টর হন। ২০১১ সালের নির্বাচনে দক্ষিণ বর্ধমান কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রচার সামলেছেন আঁখি দাস নিজেই। ২০১৬ সালের নির্বাচনেও সৌম্য চট্টোপাধ্যায় এবং আঁখি দাস ওই কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রচারের সময় ছিলেন বর্ধমানেই। ২০১৬ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় শাসক তৃণমূলের প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনায় সাহায্য পরামর্শও দিয়েছেন।

কমিউনিস্টবিরোধী ঘৃণার প্রচার ফেসবুকে অহরহ চলছে। মূলত বিজেপি’র আইটি সেলের কারিগর। এরাজ্যে পিছিয়ে নেই তৃণমূলের আইটি সেলও। রহস্য এটাই, সেই বিকৃত উগ্র ঘৃণার প্রচারও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ‘রিপোর্ট’ করার পরেও অবিকৃত থেকে যায়।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল গত ১৮ আগস্টের প্রতিবেদনে ফাঁস করেছে রহস্য উন্মোচনের সেই তথ্য। ভারতে ফেসবুকের পলিসি মেকাররা গুরুতরভাবে রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট। ফেসবুকের পোস্টে নজরদারির জন্য সংস্থার নির্দিষ্ট কাঠামো আছে, টিম আছে যারা নজরদারি রাখে। তেলেঙ্গনার বিজেপি নেতা টি রাজা সিং’র মুসলিম বিরোধী মন্তব্য এমনকি ‘রোহিঙ্গা মুসলিমদের গুলি করে মারার’ মতো মন্তব্য পোস্ট করেন। ভারতে নজরদারি রাখার জন্য ফেবসুকের সেই টিমের তরফে এবিষয়ে নির্দিষ্টভাবে অভিযোগ জানানো হয় যথাযথ স্থানে। এই ঘৃণার মন্তব্য মুছে দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবেই বাতিল করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এমনকি ফেসবুকের নিয়ম অনুযায়ী ওই ব্যক্তিকে ‘বিপজ্জনক ব্যক্তি’ বলে চিহ্নিত করার কথাও বলা হয়। যদিও তা খারিজ করে দেওয়া হয়। বরং নজরদারি দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভারতে ফেসবুকের অন্যতম কর্ত্রী জানিয়ে দেন, বিজেপি দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। পলিসি সংক্রান্ত প্রধান আঁখি দাস তাই পোস্ট মোছার অনুমোদন দেননি, ‘ব্যবসা ও শাসক পক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতি হবে’- এই অজুহাতে।

একাধিক বিজেপি নেতাদের সঙ্গেও আঁখি দাসের ছবি দেখা গিয়েছে। এমনকি খোদ তাঁর ফেসবুক টাইমলাইনে কোভিডের জন্য ‘মুসলিমদের বাড়তি দায়িত্ব পালন করা উচিত’র মতো সূক্ষ্ম বিষাক্ত প্রচারও শেয়ার করতে দেখা গেছে। এমনকি, তাঁর যমজ বোন, প্রাক্তন এবিভিপি নেত্রী রশ্মি দাসের লেখাও তিনি শেয়ার করেছেন নিজের ওয়ালে। নরেন্দ্র মোদী ডট ইন-এ তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। আবার ২০১৬সালে বিধানসভা নির্বাচনের পরে মমতা ব্যানার্জির গদগদ প্রশংসা করে লিখেছেন একটি সর্বভারতীয় নিউজ পোর্টালে। 

ভারতে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট মনোভাব বেআব্রু হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলিও প্রতিবাদের সোচ্চার হয়েছে। কিন্তু মমতা ব্যানার্জির সম্ভবত হাত-পা বাঁধা।

আঁখি দাস শাসক তৃণমূলেরও ঘনিষ্ঠ, এবার সামনে এল সেই ছবিই। আঁখি দাসের ‘সাহায্য ও পরামর্শ’ ২০২১ সালের নির্বাচনেও মমতার গোপন তাস হতে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

গোপনে বা প্রকাশ্যে তৃণমূল-বিজেপি’র রাজনৈতিক বোঝাপড়া এই বাংলার মানুষের কাছে অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে ঘটনা পরম্পরায়। এবার ফেসবুকেও সেই বোঝাপড়া!

ভারতে ফেসবুক কর্ত্রীর বিজেপি ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি তৃণমূল সখ্যের ছবিও এবার সামনে এল। ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপের রাজনৈতিক নিরপেক্ষ অবস্থানের ওপর সংশয়ের অন্ধকার আরও গাঢ় হলো।

 

গণশক্তি, ২০ আগস্ট, ২০২০

 

ফোটো ক্যাপশন: ২০১৪ সালের ৫মার্চ লোকসভা নির্বাচনের আগে কলকাতা টাউনহলে ফেসবুকের একটি অনুষ্ঠানে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আঁখি দাস। ছবিটি আঁখি দাসের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে নেওয়া হয়েছে। 

 

20200807

JB & HKS: Living Legends of Indian Communist Movement

অজয় দাশগুপ্ত

 

২০০৫সালে সিপিআই(এম)-র দিল্লি পার্টি কংগ্রেস ছিল সবদিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ এবং উল্লেখযোগ্য। কেন্দ্রে তখন বামপন্থীদের সমর্থনে ইউপিএ সরকার চলছে, আর বামপন্থীদের মধ্যে মূল শক্তি সিপিআই(এম)-ই। ফলে পার্টি কংগ্রেসে সিপিআই(এম) কী আলোচনা করে তারদিকে নজর ছিল সবার। পার্টির অষ্টাদশ কংগ্রেসের খসড়া রাজনৈতিক প্রস্তাব প্রকাশিত হওয়ার সময় থেকেই তা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দিনের পর দিন প্রতিবেদন প্রকাশ, আলাপ-আলোচনা চলছিল। এফডিআই বা প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ, সোজাকথায় দেশীয় শিল্পে বিদেশী পুঁজির বিনিয়োগ নিয়ে পার্টির দৃষ্টিভঙ্গি কী হবে; বিশ্বব্যাঙ্ক, এডিবি বা আইএমএফ-র প্রকল্পগুলিকে পার্টি পরিচালিত রাজ্য সরকারগুলি কীভাবে গ্রহণ করবে; এনজিও-গুলিকে কী চোখে দেখা হবে, তাতে পার্টিকর্মীরা কী ভূমিকা নেবেন ইত্যাদি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে পার্টির নীতি অভিমুখ এই পার্টি কংগ্রেসেই ঠিক হয়। 

দিল্লি পার্টি কংগ্রেসে যাঁরা অংশগ্রহণ করেছেন অথবা অনেকদিন ধরে লেফট-বিট করছেন, সেইসব সাংবাদিকদের অনেকেরই হয়তো মনে থাকবে, তখন দিল্লিতে সিপিআই(এম)-র কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর একে গোপালন ভবনকে পার্টি কংগ্রেস উপলক্ষে লাল আলো এবং লাল পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছিল। একে গোপালন ভবনে ঢোকার ঠিক মুখেই একটা বিশাল হোর্ডিং লাগানো হয়েছিল। তাতে জ্যোতি বসু এবং হরকিষেণ সিং সুরজিৎ-এর ছবি লাগিয়ে লেখা ছিল: “Living Legends of Indian Communist Movement” অর্থাৎ ‘‘ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের জীবন্ত কিংবদন্তী’’। বিশেষণ সঠিক হলেও, কমিউনিস্ট পার্টিতে জীবিত অবস্থায় এধরণের সম্মাননা ছিল একেবারেই ব্যাতিক্রমী।

এই দুই জীবন্ত কিংবদন্তীর মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল খুবই গভীর এবং পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধামিশ্রিত। দুজনের এই সম্পর্কের একটি বিরল ও অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী থাকার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল, যা চিরকাল মনে থাকবে। ২০০৮সালের ১আগস্ট কমরেড হরকিষেণ সিং সুরজিতের জীবনাবসান হয়। তারআগে সেবছরই মে মাসে একবার তিনি প্রায় মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন। ঘটনাটি সেই সময়ের।

 ২০০৮সালেরই ১৭মে শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে সুরজিৎকে নয়ডার মেট্রো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার এতটাই অবনতি হয়েছিল যে কেন্দ্রীয়ভাবে যারা কাজ করেন, পার্টির সেই সব পলিট ব্যুরো সদস্যকে দিল্লিতেই থাকতে বলা হয়েছিল, রাজ্যগুলিকেও বড় ধরণের কর্মসূচি স্থগিত রাখতে বলা হয়। ১৮মে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং নিজে হাসপাতালে গিয়ে সুরজিৎকে দেখে আসেন।

এধরনের পরিস্থিতিতে সব সংবাদমাধ্যমেই কিছু আগাম কাজ সেরে নেওয়া হয়। সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য, ছবি এবং জীবনপঞ্জী চূড়ান্ত করা ছাড়াও তাঁর সম্পর্কে ঘনিষ্ঠদের স্মৃতিচারণা সংগ্রহ করা। স্বাভাবিকভাবেই আমার ওপরে ভার পড়েছিল সুরজিৎ সম্পর্কে জ্যোতি বসুর একটি লেখা তৈরি করার। জয়কৃষ্ণ ঘোষের সঙ্গে কথা বলে ২১ তারিখ সকালে ইন্দিরা ভবনে পৌঁছে গেলাম। নির্দিস্ট সময়ে জ্যোতিবাবুর ঘরে আমাকে জয়দা পৌঁছে দিলেন।

আমি জ্যোতিবাবুকে বললাম, ‘‘কমরেড সুরজিৎ হাসপাতালে খুবই সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছেন। বিমানদা বললেন, আপনার কাছথেকে একটা বার্তা নিতে।’’

জ্যোতিবাবু বললেন, ‘‘ও কি আছে, না নেই?’’ তারপর জয়কৃষ্ণ ঘোষের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘‘তুমি যে বললে, অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।’’

জয়দা বললেন, ‘‘আমাকে তো সিসি অফিস থেকে তাই জানালো একটু আগে।’’

জ্যোতিবাবু আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘‘ও তো আমার থেকেও বয়সে ছোট। ওর আগে যাওয়ার কথা নয়।’’

তারপর বললেন, ‘‘ঠিক আছে, তুমি এসেছ যখন, আমি একটা মেসেজ দিচ্ছি। তুমি বিমানকে দিও, ও পাঠিয়ে দেবে।’’

এরপর গড়গড় করে ইংরেজীতে বলতে শুরু করলেন। আমি গণশক্তির হয়ে ২০০০সাল থেকে জ্যোতিবাবুর বিভিন্ন লেখার ডিকটেশন নিয়েছি, কিন্তু তার সবই বাংলায়। হঠাৎ ইংরেজীতে নিতে গিয়ে একটু ঘাবড়েই গেছিলাম সেদিন। কারণ, ওঁকে তো আর রিপিট করতে বলা যায় না! যাইহোক, উনি যা বললেন, আমার সীমিত ইংরেজী বিদ্যায় তা লিখে নিলাম। নোট দেওয়ার পরেও কিছু কথা বললেন সুরজিৎ সম্পর্কে এবং তা লেখার জন্য নয়, সেটাও বলে দিলেন।

জ্যোতিবাবুর ঘর থেকে বের হওয়ার পর জয়দা আমাকে বললেন, ‘কি, তুমি যা চাইছিলে, তা পেলে না তো? উনি এরকমই, ডেথ নিউজ না পেলে কিছু বলবেন না।’’ আমি বললাম, ‘‘যা পেয়েছি, তা একটা দুর্লভ ব্যাপার!’’

ইন্দিরা ভবন থেকে সোজা গণশক্তি অফিসে এলাম। অভীক দত্ত অফিসেই ছিল, তাঁকে গোটা ঘটনাটা বললাম। অভীকদা সব শুনে বললো, ‘‘তাই নাকি! এতো অসাধারণ ঘটনা! তাড়াতাড়ি লিখে ফেলো, বিমানদাকে দেখিয়ে আনি!’’ দ্রুত কম্পোজ করে প্রিন্ট-আউট বের করে দিলাম। একটু পরে অভীকদা আলিমুদ্দিন থেকে ফিরে এসে বললো, ‘‘বুদ্ধদা পার্টি অফিসেই ছিলেন। উনি এই ঘটনা শুনে, আর লেখাটা দেখেই দিল্লিতে প্রকাশ কারাতকে ফোন করলেন। প্রকাশদাও লেখাটা এক্ষুনি পাঠিয়ে দিতে বললেন।’’ দিল্লিতে পাঠানোর পর বারতিনেক ফোন করে লেখাটার ইংরেজী গঠনগত (যা কিনা আমারই ভুল) ছোটখাটো কিছু সংশোধন করলেন প্রকাশ কারাত। তারপর জানালেন, এই মেসেজটা পার্টির সমস্ত পত্রিকাতে ছাপানোর জন্য আইএনএন থেকে পাঠানো হচ্ছে। পরদিন গণশক্তিতেও তা প্রকাশিত হয়েছিল সংবাদ আকারে।

মূল ইংরেজী লেখাটা এবং পরে বাংলা অনুবাদটা এখানে দিলাম:

Beloved Comrade Surjeet,

I am deeply grieved to hear about your continued illness. I was just now reminiscing how for long years we have been working together particularly after the split of the party. I can never forget the role you played in organising and giving leadership to the Party.

I particularly remember the day when due to my illness I wanted to leave the responsibility given to me by the Party, as Chief Minister of West Bengal. You came and met me in my house. Then you seemed to be nervous, thought that this may adversely affect the Party. After discussion then we worked out a formula that we would create a new post of Deputy Chief Minister, who will later on be the Chief Minister and I shall not stand for election. That formula worked very well. Buddhadeb Bhattacharjee was very well accepted both by the Party and the people of West Bengal. So, at the end of my tenure, I resigned and Buddhadeb took over the Chief Ministership. I also remember with pride how you helped the Party to flourish in different provinces.

I also remember how you did agree with me that the unity of the Left parties in West Bengal is essential and I feel proud that the Left Front government carried on thirtyone years with the support and love of the people of the state.

I remember you also played host to my family when we went to Punjab. Though I am older than you and now almost bedridden, I am confident that our Party will go forward from success to success in many parts of India. Despite many crests and ebbs people will finally emerge victorious and go in for a classless society free from exploitation of any form.

At the end, I want to remember with pride the role you played in the new political situation in country to keep the communal BJP at bay. We extended our outside support to Congress, incumbent upon the basis of the Common Minimum Programme and the interests of the people and the country.

Jyoti Basu

Kolkata,

May 21, 2008

From India News Network (INN)

Kolkata, May 21, 2008

................

প্রিয় কমরেড সুরজিৎ,

আপনার ধারাবাহিক অসুস্থতার খবরে আমি খুবই বেদনাহত হয়ে পড়েছি। আমার এখনই মনে পড়ছিল, কত দীর্ঘ সময় ধরে আমরা একসাথে কাজ করেছি, বিশেষ করে পার্টি ভাগ হওয়ার পর থেকে। পার্টিকে সংগঠিত করা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা আমি কখনই ভুলতে পারবো না।

বিশেষ করে আমার সেই দিনের কথা মনে হচ্ছে, যখন অসুস্থতার কারণে পার্টি আমাকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যে দায়িত্ব দিয়েছিল, তা ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম। আপনি এলেন এবং বাড়িতে আমার সঙ্গে দেখা করলেন। আপনাকে একটু চিন্তিত দেখাচ্ছিল, হয়তো ভাবছিলেন যে পার্টির ওপরে এর প্রতিকূল প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। আলোচনা করে আমরা একটু সূত্র বের করলাম যে প্রথমে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর একটি নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে, যিনি পরে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং পরবর্তী নির্বাচনে আমি আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো না। এই সূত্র খুব ভালো কাজ করেছিল। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে পার্টি এবং পশ্চিমবঙ্গের মানুষ খুব ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন। সুতরাং আমার টার্ম শেষ হওয়ার মুখে আমি ইস্তফা দিলাম এবং বুদ্ধদেব মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। বিভিন্ন প্রদেশে পার্টির বিকাশ ঘটাতে আপনি কিভাবে সাহায্য করেছেন, আনন্দের সঙ্গে আমার সেকথাও মনে পড়ছে।

আমার এটাও মনে পড়ছে, পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থী দলগুলির ঐক্য কতটা জরুরী সেই প্রশ্নে আপনি আমার সঙ্গে একমত ছিলেন এবং এই রাজ্যের মানুষের সমর্থন ও ভালোবাসার ফলে বামফ্রন্ট সরকার যে ৩১বছর ধরে চলছে সেকথা ভেবে আমি গর্বিত বোধ করি।

আমি সপরিবারে যখন পাঞ্জাবে গিয়েছিলাম তখন আপনার আতিথেয়তায় যে ছিলাম, সেকথাও আমার মনে পড়ছে। যদিও আমি আপনার থেকে বয়সে একটু বড় এবং এখন প্রায় শয্যাগত হয়ে আছি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের পার্টি ভারতের বিভিন্ন অংশে আরও সাফল্য অর্জন করার জন্য এগিয়ে যাবে। বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত মানুষের জয়ই অবশ্যম্ভাবী এবং যে কোন প্রকারের শোষণমুক্ত শ্রেণীহীন সমাজ অবশ্যই তৈরি হবে।

পরিশেষে, দেশের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক বিজেপি-কে ক্ষমতা থেকে দুরে সরিয়ে রাখতে আপনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, সেকথা আমি স্মরণ করতে চাই। সাধারণ ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে এবং দেশের জনগণের স্বার্থে আমরা বর্তমান কংগ্রেস সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিয়েছি।

জ্যোতি বসু

কলকাতা,

২১মে, ২০০৮

ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক (আইএনএন)

২২ মে, ২০০৮ গণশক্তিতে প্রকাশিত এই খবরের লিঙ্ক:

http://archive.ganashakti.co.in/shownews.php?w=665&h=576&year=2008&month=5&date=22&page=7&dpn=165809

 

 

তৃণমূলের শ্যামাপ্রসাদ ভজনা! : অজয় দাশগুপ্ত

অনেকেই অবাক হচ্ছেন, তৃণমূলের শ্যামাপ্রসাদ জন্মজয়ন্তী পালনের বহর দেখে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, ‘প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতা’-র দৌড়ে ‘রামনবমী’ আর ‘হনুমানজয়ন্তী’র পর এখন বিজেপি-র সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তৃণমূলও বেশ কিছুদিন ধরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তী পালন করা শুরু করেছে। কলকাতা বন্দরে নেতাজী সুভাষের নামে ডক থাকলেও তার নামকরণ শ্যামাপ্রসাদের নামে করায় তাতে আপত্তি করার কোনো কারণ খুঁজে পাননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভাইপো সাংসদ তো রীতিমত সার্টিফিকেট দিয়ে টুইট করেছিলেন!

আরএসএস-র ‘দুর্গা’, আরএসএস-র একজন প্রথম সারির সেবককে অস্বীকার করতে পারেন! তৃণমূল-বিজেপি যে ‘মেড ফর ইচ আদার’ তা কি ভুলে যাচ্ছেন!!

একটু খতিয়ে দেখুন, তাহলেই বুঝবেন অন্য পরিচয়ের আড়ালে আসলে কে এই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়? শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই জনসঙ্ঘের জন্মদাতা, যা পরে ভারতীয় জনতা পার্টিতে পরিণত হয়। আরএসএস-র মতই তিনিও স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে সহযোগিতার নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। ব্রিটিশ আমলে তিনি যখন বাংলা প্রদেশের মন্ত্রী ছিলেন, তখন হিন্দু মহাসভা আর মুসলিম লিগের পক্ষ থেকে ১৯৪২ সালের ২৬জুলাই ব্রিটিশ সরকারের গভর্নর স্যার জন হার্বার্টকে এক চিঠিতে লেখেন: “Let me now refer to the situation that may be created in the province as a result of any widespread movement launched by the Congress. Anybody, who during the war, plans to stir up mass feeling, resulting in internal disturbances or insecurity, must be resisted by any Government that may function for the time being” (Leaves from a diary. Oxford University Press, p. 179) (বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়া কংগ্রেসের আন্দোলনের ফলে এই প্রদেশে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে সে সম্পর্কে এবারে বলি। সরকারের উচিৎ যে কোন লোক, যে যুদ্ধ চলাকালীন জনগণকে ক্ষেপিয়ে তুলে আভ্যন্তরীণ অশান্তি বা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করার পরিকল্পনা করে, তাকে আটকানো)।

গভর্নরকে লেখা ওই চিঠিতে ছিল, “প্রশ্ন হল বাংলায় এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে (ভারত ছাড়ো) কিভাবে লড়া হবে। প্রশাসন এমনভাবে চালানো দরকার যাতে কংগ্রেসের হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও এই প্রদেশে তা শেকড় ছড়াতে না পারে। আমাদের, বিশেষ করে দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের, জনগণকে একথা বলতে পারা উচিৎ যে কংগ্রেস যে স্বাধীনতার দাবিতে ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরু করেছে, জনপ্রতিনিধিদের সেই স্বাধীনতা ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। তবে হয়ত কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেই স্বাধীনতা জরুরী অবস্থার কারণে সীমায়িত করা হয়েছে। ভারতীয়দের উচিৎ ব্রিটিশদের বিশ্বাস করা। ব্রিটেনের ভালর জন্যে নয়, এই প্রদেশের সুরক্ষা এবং স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্যেই। গভর্নর হিসাবে আপনি এই প্রদেশের সাংবিধানিক প্রধানসুলভ কাজই করবেন এবং সম্পূর্ণভাবে আপনার মন্ত্রীদের পরামর্শ অনুযায়ী চলবেন।” (The RSS and the BJP: A Division of Labour. LeftWord Books. pp. 56–57).

…………………

To compete with RSS-BJP with the similar weapon of communalism, the TMC has started observing date of birth & death of Syama Prasad Mookerjee apart from armed procession of RamNavami and Hanuman Jayanti. Never before such things happened in Bengal. BJP has introduced which is being followed by the TMC in competition.

Who is this Syama Prasad Mookerjee? Abetted and dictated by RSS he became the founder of JanaSangh, the political wing of RSS. JanaSangh became Bhartiya Janata Party led by the RSS. Like RSS Mookerjee also opposed Indian Freedom Movement. Just prior to Quit India Movement, he wrote to British Governor Sir John Herbert on July 26, 1942 on behalf of Hindu Mahasabha and Muslim League as a Minister in the cabinet of Muslim League Government in Bengal Province that, " Let me now refer to the situation that may be created in the province as a result of any widespread movement launched by the Congress. Anybody, who during the war, plans to stir up mass feeling, resulting in internal disturbances or insecurity, must be resisted by any Government that may function for the time being " (Leaves from a diary. Oxford University Press, p. 179) (The RSS and the BJP: A Division of Labour. LeftWord Books. pp. 56–57).

This is what Syama Prasad Mookerjee wrote as a Minister to the imperialist Governor of Bengal, Sir John Herbert on July 26, 1942 about 'Quit India Movement':

“The question is how to combat this movement in Bengal? The administration of the province should be carried on in such a manner that in spite of the best efforts of the Congress, this movement will fail to take root in the province. It should be possible for us, specially responsible Ministers, to be able to tell the public that the freedom for which the Congress has started the movement already belongs to the representatives of the people. In some spheres it might be limited during the emergency. Indians have to trust the British, not for the sake of Britain, not for any advantage that the British might gain, but for the maintenance of the defence and freedom of the province itself. You as Governor will function as the constitutional head of the province and will be guided entirely on the advice of your Ministers.

As one of your Ministers, I am willing to offer you my whole-hearted cooperation and serve my province and country at this hour of crisis. The conditions which I have mentioned above are of a general character. They are mentioned not for creating any obstacle. They indicate to you, who are after all a foreigner, how an Indian would like to cooperate with you in the service of his country that is threatened with imminent danger.” “Let me now refer to the situation that may be created in the province as a result of any widespread movement launched by the Congress. Anybody, who during the war, plans to stir up mass feeling, resulting in internal disturbances or insecurity, must be resisted by any Government that may function for the time being.”


 

20200721

মমতাই প্রমাণ করেছেন ‘২১শে জুলাই’ এক ধাপ্পার দিন!


চন্দন দাস


‘২১ শে জুলাই’-র মামলা এখনও চলছে। সরকার মামলা প্রত্যাহার করেনি। ‘২১শে জুলাই’ কমিশন গড়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি মুখ্যমন্ত্রী হয়ে। সেই রিপোর্ট জমা পড়েছে। কিন্তু ওই পর্যন্তই। ‘২১ শে জুলাই’-র হলফনামা পেশকারী মনীশ গুপ্তকে নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ পর্যন্ত বানিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু ‘২১শে জুলাই’-র কমিশনের সুপারিশগুলির কিছুই করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রথম ‘২১শে জুলাই’-এ কিছু ঘোষণা করেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। যেমন ‘দু’ বছরে দশ লক্ষ চাকরি দেবো।’ ন’ বছর কেটে গেছে। সেই প্রতিশ্রুতিও পালিত হয়নি। গত ন’ বছরে পশ্চিমবঙ্গে কাজের সুযোগ প্রচুর কমেছে। ২০১১-র ‘২১ শে জুলাই’-এ একটি চমৎকার শপথ বাক্য নেতা, কর্মীদের পাঠ করিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। বলেছিলেন, ‘‘..বিশৃঙ্খলা কিন্তু বরদাস্ত করা হবে না। বলুন, চুরি করবেন না। কেউ অন্যায় করলে আটকাবেন।’’ সেই ঘোষণা এখন একটি মস্করায় পরিণত হয়েছে। এখন মমতা ব্যানার্জি ভুল করেও এই কথা মুখে আনেন না। সেই ‘২১ শে জুলাই’ থেকে গত ন’ কতরকমভাবে চুরি করা যায় তা দেশকে হাতে কলমে শিখিয়েছে মমতা ব্যানার্জির দল। সব চুরিই ‘বরদাস্ত’ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। চুরি করে শাস্তি পেয়েছে এমন তৃণমূলীর অস্তিত্ব নেই রাজ্যে! বরং উল্টোটাই শোনা গেছে গত কয়েক বছর।


২০১৯-র ‘২১ শে জুলাই’-র আগে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসীদের কাটমানির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছিল। ক্ষুব্ধ, ঠকে যাওয়া মানুষ তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের বাড়ি ঘিরছিল কাটমানি ফেরতের দাবি নিয়ে। চারিদিকে হুলস্থুল। রাজ্যের ভাবমূর্তিতে দেশময় কালি ছিটছে তখন। তেমন সময়ে, ২০১৯-র ‘২১শে জুলাই’-র মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে বলতে শোনা গেছিল ২০১১-র উলটো কথা। সেদিন তিনিই বলেছিলেন, ‘‘টাকা চেয়ে তৃণমূলের লোকজনের বাড়ি গেলে এবার আমরা স্ট্রং ব্যবস্থা নেবো।’’ অর্থাৎ বিক্ষুব্ধ, প্রতারিত মানুষের বিরুদ্ধেই পুলিশী, প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঙ্কার দিয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। আরও কী বলেছিলেন গত বছর? কাটমানি নিয়ে ভাষণ দিতে দিতে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘...বলছে নাকি আমাদের লোকদের টাকা ফেরত দিতে। ওরা বলছে কাটমানি ফেরত দাও। কতগুলো কুঁচো চিংড়ি আর কতগুলো ল্যাটা মাছ, তাদের আবার বড় বড় কথা।’’ তৃণমূল কংগ্রেসের চোর নেতা, কর্মীদের কাটমানি দিয়ে প্রতারিত মানুষকে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী বলে দিয়েছিলেন ‘কুঁচো চিংড়ি’ আর ‘ল্যাটা মাছ।’


এবার কাটমানির ইস্যুই আছে। তবে আরও বড় আকারে। গত এক বছরে কাটমানির সঙ্গে জুড়েছে করোনায় বিপর্যস্ত মানুষের জন্য বরাদ্দ চাল লুট, আমফানে বিধ্বস্ত মানুষের ত্রিপল, চাল চুরি, আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বরাদ্দ টাকা দেদার লুট, পান বরোজের ক্ষতির টাকা চুরি — এমন নানা তৃণমূল কংগ্রেসী তস্করবৃত্তি। এই চুরিগুলিকে ইতিমধ্যেই নবান্নে সরকারী চেয়ার থেকে মমতা ব্যানার্জি  ‘তাড়াতাড়ি কাজ করতে গিয়ে কিছু ভুল’ বলে সার্টিফিকেট দিয়ে রেখেছেন। এবার ‘২১ শে জুলাই’-র দলীয় মঞ্চ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী এই জালিয়াতিগুলিকে কী বলেন, তা মঙ্গলবারই স্পষ্ট হবে। প্রসঙ্গত, ২০১৮-তে দখলের পঞ্চায়েত নির্বাচনের পরের ‘২১ শে জুলাই’-এ তৃণমূল কংগ্রেসের বার্তা ছিল,‘‘তৃণমূল দখল করবে দিল্লি, দিদি হবেন প্রধানমন্ত্রী।’’


গত বছর, অর্থাৎ ২০১৯-র ‘২১শে জুলাই’-এ মমতা ব্যানার্জি বলেছিলেন,‘‘২০২১’র ভোট দেরি আছে। পরের বার বলব।’’ অর্থাৎ মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর আগামী বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বলার কথা। আশা করা যায় বলবেন। গতবছর তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন,‘‘কানে কানে সবাইকে বলে দেবেন, তৃণমূল ভয় পায় না।’’ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা প্রকাশ্যে, চুরির দায়ে কান মুলছেন, হাত জড়ো করে ক্ষমা ভিক্ষা করছেন, বাঁশবাগানে লুকিয়ে রাত কাটাচ্ছেন — এসব রাজ্য দেখেছে গত কয়েক মাসে। মানুষের বিক্ষোভের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা ভয় পেয়ে ঘরে ঢুকে গেছে — কানে কানে নয়, সারা রাজ্য জোরে জোরে বলছে এই কথা। এবার মমতা ব্যানার্জি দলের নেতাদের ভোট লুটের যোগ্য করে তুলতে কী ভোকাল টনিক দেন — সেটাই প্রধান আকর্ষণ মঙ্গলবারের ভার্চুয়াল সভার।


কিন্তু ’২১ জুলাই’-র কমিশন, মামলার কী হলো? আর কিছু না পারুন, তার কোনও হিল্লে করবেন মমতা ব্যানার্জি — এটা আশা করাই যায়। তাও পারেননি স্বঘোষিত অগ্নিকন্যা১৯৯৩-র ২১শে জুলাই ধর্মতলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব, মনীশ গুপ্ত সেই ঘটনা সম্পর্কে হাইকোর্টে হলফনামা দিয়েছিলেন। সেই হলফনামায় বলা হয়েছিল,‘ওই দিন (১৯৯৩-র ২১শে জুলাই)-এ জমায়েতে বহু সশস্ত্র দুষ্কৃতী (অ্যান্টিসোশ‌্যাল) নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জড়ো হয়েছিল।’ তারা মহাকরণের দিকে ছুটতে থাকে। পুলিশ প্রথমে নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জনতাকে শান্ত করতে চেষ্টা করে। ‘জনতা’ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাইপগান থেকে গুলি ছোঁড়ে। ইট, পাথর, সোডার বোতলও ছোঁড়া হয় যথেচ্ছ। পুলিশ তখন লাঠি চালায়। ৩৪১ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেলও ফাটায় পুলিশ। পরে রাইফেল থেকে ৭৫ রাউন্ড ও রিভলভার থেকে ৪৬ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। মনীশ গুপ্তর হলফনামা আরও জানিয়েছিল, সেদিন ৩টি বাস পোড়ানো হয়েছিল। ৩৫টি গাড়ি ভাঙচুর হয়েছিল। সব মিলিয়ে জখম হয়েছিলেন ২১৫ জনেরও বেশি পুলিশ। তাঁদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ডিসি (সদর), ৭জন ডিসি, ১০ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার রয়েছে। ৩৪ জন পুলিসকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় পুলিশ হাসপাতালে। তাঁদের অনেকেরই পাইপগানের গুলি এবং বোমার স্প্লিন্টার লেগেছিল। তালতলা থানার সার্জেন্ট ডি কে ঘোষালের গুলি লেগেছিল। এক সাব ইনস্পেক্টর কালাচাঁদ সমাদ্দারের শরীরে আঘাত ছিল বোমার। কলকাতা পুলিসের গোয়েন্দা বিভাগের সাব ইনস্পেক্টর একে গাঙ্গুলিকে এস এস কে এম হাসপাতালের সামনে মেরে মাথা ফাটিয়ে, হাত ভেঙে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। অর্থাৎ সেদিন ‘আন্দোলনকারীরা’ বোমা, পাইপগান নিয়ে এসেছিল! তারা মহাকরণ দখল করতে ছুটছিল। গুলি ছুঁড়ছিল, বোমা মারছিল।

সেদিন সাংবাদিকও পিটিয়েছিল মমতা ব্যানার্জির দলবল। দুপুর পৌনে তিনটে নাগাদ ধর্মতলায় স্কুটার আরোহী ওই সাংবাদিক, সঈদ আহমেদকে মমতা ব্যানার্জির কর্মীরা ঘিরে ধরে মেরেছিল। মারাত্মক আহত হন তিনি। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুটি অভিযোগ পুলিশ দায়ের করে। একটি পার্ক স্ট্রিট থানায়। আর একটি হেস্টিংস থানায়। অভিযোগের মধ্যে ছিল সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, অস্ত্র আইন লঙ্ঘন, খুনের চেষ্টা, পুলিশকে মারধর ইত্যাদি। সেদিন রেডরোডে, ছদ্মবেশে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর গাড়ি আটকানোর চক্রান্ত হয়েছিল, তা জানা গেছে সোনালি গুহর লেখায়। সেই ‘দায়িত্ব’ সোনালি গুহদের নিজের বাড়িতে ডেকে দিয়েছিলেন স্বয়ং মমতা ব্যানার্জি। তিনি এখন মুখ্যমন্ত্রী। সেদিনের ঘটনা সংক্রান্ত দুটি মামলা আজও চলছে। সাতাশ বছর। অভিযুক্তদের আইনজীবী অলোক কুমার দাস সোমবার জানিবেছেন, ‘‘মামলাটি এখনও চলছে। তারিখ পে তারিখ চলছে। চিহ্নিত ১৫-১৬ জন এখনও হাজিরা দেন ডেট পড়লে। আমি আদালতের কাছে এবং রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি মামলটা খারিজ করতে।’’ এই আইনজীবী দু’বার তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আইনমন্ত্রীদের কাছে মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া কিছুই জোটেনি।


‘২১ শে জুলাই’-র প্রয়োজন ফুরিয়েছে চম্পলা সর্দার, কিষেণজীর মত। ফলে সেদিনের স্বরাষ্ট্র সচিব মনীশ গুপ্তর মন্ত্রী, সাংসদ হওয়া হয়ে গেলেও মামলায় ‘তারিখ পে তারিখ’ থামছে না। মমতা ব্যানার্জির ঘোষণা ছিল ‘২১শে জুলাই’-এ ঘটনায় ‘দায়ী’ সিপিআই(এম) নেতা, মন্ত্রী, পুলিশ কর্মীদের শাস্তি দেবেন। এখন সে কথা বলেননও না। সিপিআই(এম)-কে কিছু করতে হয়নি। মমতা ব্যানার্জিই প্রমাণ করে তুলেছেন — ‘২১শে জুলাই’ এক বিরাট ধাপ্পার দিন!


 ২০ জুলাই, ২০২০